আগামী ৩ মাস প্রতিদিন একটা করে গবেষণাপত্র পড়ার লক্ষ্যের আজ ২য় দিন। আজকের গবেষণাপত্রটি ২০২৫ সালে ACL এ সেরা রিসোর্স পেপার হিসাবে পূরষ্কার পেয়েছে। বেশ ইউনিক একটা জিনিস নিয়ে কাজ করেছেন গবেষকরা, তবে আমার মতে এই কাজ প্রচণ্ড পরিশ্রমসাপেক্ষ। যাইহোক এখন আসল আলাপে যাই,
সঠিক বা ভুলের ধারণা কি সব দেশে এক? আমরা যাকে 'নৈতিক' বলে মনে করি, একজন চীনা বা রুশ নাগরিকও কি ঠিক সেভাবেই ভাবেন? আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI কি মানুষের এই জটিল নৈতিকতার পার্থক্য বোঝে?
Are Rules Meant to be Broken? Understanding Multilingual Moral as a Computational Pipeline with UNIMORAL নামের গবেষণাপত্রটা এই বিষয়েই কথা বলে।
এই গবেষণায় 'ইউনিমোরাল' নামে বিশাল একটা ডেটাসেট তৈরি করা হয়েছে। গবেষকরা ছয়টি ভিন্ন ভাষার (ইংরেজি, আরবি, চীনা, হিন্দি, রুশ এবং স্প্যানিশ) মানুষের কাছে নানা ধরনের নৈতিক সংকট তুলে ধরেন।
এর মধ্যে যেমন ক্লাসিক মনস্তাত্ত্বিক প্রশ্ন ছিল, তেমনই রেডিট-এর মতো সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নেওয়া বাস্তব জীবনের দ্বিধাও ছিল। অংশগ্রহণকারীরা শুধু কোন পদক্ষেপটি বেছে নিলেন তাই নয়, কেন নিলেন, কোন কোন বিষয় (যেমন আবেগ, সংস্কৃতি, আইন বা দায়িত্ববোধ) তাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করল, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন।
এরপর গবেষকরা বর্তমানের জনপ্রিয় এআই মডেলগুলোকে একই পরীক্ষায় ফেলেন। ফলাফল বেশ চমকে দেওয়ার মত যদিও খুব একটা অপ্রত্যাশিত না।
প্রথমত, দেখা গেছে এআই মডেলগুলো মানুষের মতো নৈতিক বিচার করতে প্রায় পুরোপুরি ব্যর্থ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের পারফরম্যান্স ছিল কেবলই আন্দাজে ঢিল ছোঁড়ার মতো।
দ্বিতীয়ত, গবেষণায় স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, নৈতিকতা মোটেও সর্বজনীন নয়। এটি সংস্কৃতির ওপর ভীষণভাবে নির্ভরশীল। যেমন, আরবি ও হিন্দিভাষী মানুষেরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে 'পবিত্রতা' বা 'ঐশ্বরিক মূল্যবোধ'-কে যতটা গুরুত্ব দিয়েছেন, স্প্যানিশভাষীরা ততটা দেননি; তারা বরং 'সবার জন্য কোনটা ভালো' সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ভেবেছেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি উঠে এসেছে তা হলো, এআই মডেলগুলো ইংরেজি, স্প্যানিশ বা রুশ ভাষায় তুলনামূলক ভালো করলেও আরবি এবং হিন্দির মতো ভাষায় খুবই দুর্বল পারফর্ম করেছে। এর প্রধান কারণ হলো, এই ভাষাগুলোয় প্রশিক্ষণের জন্য ডেটার মারাত্মক অভাব।
এই গবেষণার সিদ্ধান্ত খুবই পরিষ্কার: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে যদি সত্যিই মানুষের জন্য কার্যকরী এবং 'নৈতিক' করে তুলতে হয়, তবে তাকে শুধু ইংরেজি বা পশ্চিমা সংস্কৃতি শেখালেই চলবে না। তাকে বিশ্বের প্রতিটি ভাষার নিজস্ব সাংস্কৃতিক ও নৈতিক মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে। এই গবেষণাটি সেই লক্ষ্যেই একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।